শনিবার ০৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
বিনোদন

আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা ‘গাজি কালুর কিচ্চা পালা’: আটপাড়ায় লোকজ ঐতিহ্য রক্ষার ব্যতিক্রমী প্রয়াস

নুর মোহাম্মদ খান ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:০৫ পি.এম

আটপাড়া উপজেলার শুনই ইউনিয়নে নেত্রকোনার

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্য যখন হারিয়ে যেতে বসেছে, ঠিক তখনই বিলুপ্তপ্রায় এক লোকজ সংস্কৃতি হিসেবে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ‘গাজি কালুর কিচ্চা পালা’। একসময় বাংলার ঘরে ঘরে, মাঠে-ময়দানে শীতের দীর্ঘ রাতে মানুষের প্রধান বিনোদন ছিল এই কিচ্চা পালা। এখন শহর তো বটেই, গ্রামাঞ্চলেও প্রায় হারিয়ে গেছে এই ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য। তবে এখনও কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং বেদে সম্প্রদায়ের উদ্যোগে কোনোমতে টিকে আছে এই লোকজ সাংস্কৃতিক ধারা।
নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার ২নং শুনই গ্রামে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগের মাধ্যমে আজও এই লোকজ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু খান। শীতের রাত এলেই যেন গ্রামের মানুষের মনে অন্যরকম এক অপেক্ষা কাজ করে। খোলা আকাশের নিচে, হারিকেন কিংবা মাইক-বাতির আলোয় বসে শত শত মানুষ মুগ্ধ হয়ে শোনে প্রাচীন কালের বীরত্বগাথা—গাজি ও কালুর কিচ্চা। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে গ্রামের খোলা মাঠ ও উঠান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগের দিনে গাজি কালুর কিচ্চা পালা ছিল গ্রামবাংলার সাংস্কৃতিক শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। এতে যেমন ছিল বিনোদন, তেমনি ছিল নৈতিক শিক্ষা, সাহস, সততা ও মানবিকতার বার্তা। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রভাবে নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে এই লোকজ সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
তবুও শুনই গ্রামের মানুষ প্রমাণ করে চলেছেন—ইচ্ছা থাকলে ঐতিহ্য বাঁচানো সম্ভব। শীতের রাতে কাজের ক্লান্তি ভুলে তারা আজও গাজি কালুর কিচ্চা পালা শোনার জন্য জড়ো হন। এই আয়োজন কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গ্রামবাংলার শেকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় আঁকড়ে ধরার এক নীরব প্রতিবাদ।
সংস্কৃতিবিদদের মতে, সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে এ ধরনের লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গ্রামবাংলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো গেলে বিলুপ্তপ্রায় লোকজ সংস্কৃতিগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।