শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
ধর্ম

শবেই বরাত করনীয় ও বর্জনীয় কি? ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৭ পি.এম

ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময় শবেই বরাত করনীয় ও বর্জনীয় কি

আজ পবিত্র শবে বরাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত মুসলিম উম্মাহর জন্য ফজিলতপূর্ণ একটি রাত হিসেবে পরিচিত। ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘মুক্তির রজনী’ নামেও পরিচিত এ রাতে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আল্লাহর রহত, মাগফিরাত ও নাজাত কামনায় নফল ইবাদতে মশগুল থাকেন।
ধর্মীয় সূত্র মতে, এই রাতে বান্দার আমলনামা পর্যালোচনা করা হয় এবং আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য গুনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করেন। ফলে রাতটি আত্মসমালোচনা, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমরা।

শবে বরাতে করণীয়

১. নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা
নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করা উত্তম। আল্লাহর কাছে নিজের ও উম্মাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এ রাতের অন্যতম আমল।
২. তওবা ও আত্মশুদ্ধি
পূর্বের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে সৎপথে চলার অঙ্গীকার করা উচিত।
৩. মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া
কবর জিয়ারত করে বা ঘরে বসেই মৃত আত্মীয়স্বজন ও মুসলিম উম্মাহর মাগফিরাত কামনা করা যায়।
৪. নফল রোজার নিয়ত
অনেক আলেমের মতে, শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখা সুন্নত। শবে বরাতের পরদিন (১৫ শাবান) নফল রোজা রাখাকে অনেকে ভালো আমল হিসেবে গণ্য করেন।
৫. হক আদায় ও সম্পর্ক মজবুত করা
আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা, মনোমালিন্য দূর করা এবং মানুষের হক আদায়ে সচেষ্ট হওয়া এ রাতের শিক্ষার অংশ।

শবে বরাতে বর্জনীয়

১. অপচয় ও আড়ম্বর এড়িয়ে চলা
অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, আতশবাজি বা অপচয়মূলক আয়োজন ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে আলেমরা মত দিয়েছেন।
২. কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন আমল
ধর্মীয় দলিল ছাড়া বিশেষ কোনো রীতি বা অনুষ্ঠান পালন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
৩. গুনাহের কাজে লিপ্ত থাকা
মিথ্যা, গীবত, ঝগড়া-বিবাদ বা হারাম কাজে লিপ্ত থেকে শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদত করা আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্য পূরণ করে না।
৪. লোক দেখানো ইবাদত
রিয়া বা লোক দেখানো আমল পরিহার করে একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করা জরুরি।
৫. অন্যকে কষ্ট দেওয়া
শব্দদূষণ, আতশবাজি বা অন্য কোনো আচরণের মাধ্যমে প্রতিবেশীর অসুবিধা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, শবে বরাত কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং আত্মসমালোচনা, ক্ষমা ও মানবিকতার চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ রাতের মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।
মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা বয়ে আনুক পবিত্র এই রজনী—এটাই সবার

এই সম্পর্কিত আরও খবর